সময় টিভির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ: 'মিডিয়া ঘাতকদের' পুনর্বাসনের চেষ্টা?
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
![]() |
| ছবি: ফাইল ফুটেজ |
গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের গণমাধ্যমগুলোতে যখন সংস্কারের হাওয়া বইছে, ঠিক তখনই দেশের অন্যতম সংবাদ মাধ্যম 'সময় টিভি'র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও শঙ্কা। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বিরোধী মত দমনে যে 'প্রপাগান্ডা মেশিনারি' সময় টিভিকে ব্যবহার করেছিল, সেই একই চক্র আবারও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চ্যানেলটিতে পুনর্বাসিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রপাগান্ডা ও সিআরআই সংযোগ
অভিযোগ রয়েছে, সময় টিভির অপসারিত এমডি ও সিইও আহমেদ জুবায়েরের নেতৃত্বে চ্যানেলটির নিউজরুম ও এডিটর প্যানেল সরাসরি CRI (Centre for Research and Information)-এর প্রপাগান্ডা উইং হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে বিএনপি এবং তারেক রহমানের নামে আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদী ট্যাগিং এবং কুৎসা রটানোর প্রধান কেন্দ্র ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। বিগত সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে 'ডিহিউম্যানাইজেশন' বা অমানবিকীকরণের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টার নেপথ্যে এই চক্রটি সক্রিয় ছিল।
রহস্যজনক 'পুনর্বাসন' প্রক্রিয়া
৫ই আগস্টের পর জুবায়েরসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের সময় টিভি থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নাম ব্যবহার করে এবং দলের জনৈক নেতার মদদে বিতর্কিত 'রুমেল'সহ সিআরআই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় সময় টিভিতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। কৌশল হিসেবে দু-একজন বিএনপি-পন্থী ব্যক্তিকে সামনে রাখা হলেও পর্দার আড়ালে আগের সেই কুখ্যাত চক্রটিই কলকাঠি নাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
শুদ্ধ মিডিয়ার দাবি
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ জনতা মনে করছেন, যারা গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদকে বৈধতা দিয়েছে এবং বিরোধী মতের মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে, তাদের পুনরায় সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা জুলাই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী।
মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের মতে:
"আমরা একটি শুদ্ধ মিডিয়া চাই। যারা এতদিন মিডিয়া যন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী দলকে 'হত্যাযোগ্য' করে তুলেছিল, তাদের কোনোভাবেই আর এই পবিত্র পেশায় সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।"
তারেক রহমান ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সচেতন মহল বলছে, কোনো অবস্থাতেই যেন আওয়ামী লীগ বা সিআরআই-এর দোসররা বিএনপির নাম ব্যবহার করে আবারও নিজেদের আখের গোছাতে না পারে।

