যশোরে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম গাছ, বন বিভাগের উদ্যোগে নিধন অভিযান শুরু

 

ছবি: পার্থেনিয়াম গাছ 

যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে পার্থেনিয়াম নামক এক ধরনের বিষাক্ত আগাছা। ডেইজি জাতের এই উদ্ভিদ দেখতে নিরীহ হলেও এর রয়েছে ভয়ঙ্কর পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব। বর্তমানে শহর ও গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট, ফসলি জমি এবং ফাঁকা জায়গাগুলোতে এই গাছের বিস্তার চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা বলছেন, গাছটি ফুল ও পাতা থেকে একটি বিশেষ ধরনের ধূলিকণা ছড়ায়, যা মানুষের ত্বকে চুলকানি, ফোস্কা এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা তৈরি করে। গবাদিপশুর ক্ষেত্রেও এটি মারাত্মক বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, গরু এই গাছ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

বন বিভাগের তৎপরতা:

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যশোর জেলা বন বিভাগ মাঠ পর্যায়ে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। বন বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “পার্থেনিয়াম গাছ দ্রুত বীজ ছড়িয়ে নতুন গাছ জন্মাতে পারে। তাই ফুল আসার আগেই গাছগুলো নিধন জরুরি।”

ছবি: পার্থেনিয়াম গাছ 

এছাড়া ফসলি জমিতে এই আগাছা দানা বাঁধায় ধানের মতো মৌসুমী ফসলের অঙ্কুরোদগমে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি অফিসের এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “গবেষণায় দেখা গেছে, পার্থেনিয়ামের নির্গত রাসায়নিক পদার্থ আশপাশের গাছের বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে।”

জনসচেতনতার আহ্বান:

বন বিভাগ ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে জনসচেতনতা বাড়াতে এলাকায় লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মতবিনিময় সভা আয়োজন করছে। সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে, কেউ এই গাছ দেখলে যেন সরাসরি হাতে না ধরে, বরং নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে জানায়।


করণীয় নির্দেশনা:

গাছটি স্পর্শ না করা

দস্তানা ও মাস্ক পরে নিধন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া

ফসলি জমিতে আগাছানাশক ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া

উপসংহার:

যশোর জেলায় পার্থেনিয়ামের দ্রুত বিস্তার এখন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তবে বন বিভাগের সময়োচিত পদক্ষেপ ও জনগণের সচেতনতা এই সংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নবীনতর পূর্বতন

প্রভাত চিত্র


প্রভাত চিত্র নিউজ ডেস্ক