যশোর জেলার ১২ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতাদের আশীর্বাদে গড়ে উঠেছে এক মেম্বার গোষ্ঠীর আধিপত্য।

ফতেপুর ইউনিয়নে বিএনপির ভেতরে অস্থিরতা: ‘বহিরাগত প্রভাব’ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দলের ভাবমূর্তি

ছবি: ফাইল ফুটেজ 

স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বিতর্কে ফতেপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতারা

৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ, তৃণমূলে ক্ষোভ

যশোরের ১২ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। অভিযোগ উঠেছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া কিছু নেতা আওয়ামী লীগের সাবেক ছায়ায় থেকে এখন বিএনপির ব্যানারে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার, আওয়ামী লীগের দালাল যিনি পূর্বে বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না, তাকেই ঘিরে গড়ে উঠেছে এককেন্দ্রিক প্রভাব। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ মহল ভুয়া প্রকল্প চালু, সরকারি সহায়তা ভাগবাটোয়ারা, ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে অপতৎপরতায় জড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগের তীর যাদের দিকে:

প্রধান: এ কে এম ফরিদুজ্জামান অপু

১. *** – সভাপতি, ৮ নং ওয়ার্ড যুবদল

২. *** – সভাপতি, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি

৩. *** – কৃষি সম্পাদক, ইউনিয়ন বিএনপি

৪. *** – সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি

৫. *** – সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড বিএনপি

৬. *** ওরফে (***) – সহ-সভাপতি, ওয়ার্ড যুবদল

তাদের সাথে বাঘারপাড়া উপজেলার কিছু নেতা সংযুক্ত 

১. এ, বি, এম, মানিক (কৃষক দল) এর চাঁদাবাজির রেকর্ডিং নতুন দিগন্ত টিম এর হাতে

২. *****

৩. *****

৪. *****

৫. *****

নাম জানা আরো অনেকে....

---

স্থানীয়দের দাবি, এদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় হাটবাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা এমনকি ঈদগাহ মাঠও দলীয় প্রভাবের আওতায় আনা হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতির ছায়ায় টেনে এনে সাধারণ মানুষকে ভীত ও দুর্বল করার অভিযোগ উঠেছে।

advertise
 আওয়ামী লীগের গডফাদার 

বিশেষভাবে অভিযুক্ত হচ্ছেন বিশিষ্ট ধান ব্যবসায়ী ইনদাদুল হক ( ইন্দা)  নামের এক ব্যক্তি, যে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের গডফাদার যিনি কোনো দলীয় পদে না থেকেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব নেতাদের অপতৎপরতায় সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপি নেতাদের প্রশ্রয়ে রাজত্ব করছে মেম্বার গোষ্ঠী: উত্তপ্ত ৮ নম্বর ওয়ার্ড

যশোর জেলার ১২ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতাদের আশীর্বাদে গড়ে উঠেছে এক মেম্বার গোষ্ঠীর আধিপত্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছে তারা।

স্থানীয়দের মতে, ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষকে উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মেম্বার ও তার অনুসারীরা ত্রাণ, উন্নয়ন প্রকল্প ও নানা সুযোগ-সুবিধা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছে। যে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি, হয়রানি এমনকি সামাজিকভাবে বয়কটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিশেষ করে যুব সমাজের একাংশ বলছে, “এই মেম্বার গোষ্ঠী নিজেরাই আইন তৈরি করে, নিজেরাই তা বাস্তবায়ন করে। দলীয় নেতারা কিছু বলছেন না, বরং তাদের ছত্রছায়া দিয়ে এই গোষ্ঠীকে আরও শক্তিশালী করে তুলছেন।”

এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহলের মতে, দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এসব স্বেচ্ছাচার ও গোষ্ঠী আধিপত্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, না হলে দলের ভিতর থেকেই ধস নামতে পারে।

শেষ কথা:

৮ নম্বর ওয়ার্ডে যে অস্বচ্ছ রাজনীতির চর্চা চলছে, তা শুধুই দল নয়, গোটা এলাকার জন্যই অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি নেতৃত্ব এই অনিয়ম রোধে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 তৃণমূলে ক্ষোভ ও সতর্কবার্তা:

স্থানীয় বিএনপির একাংশ মনে করছেন, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ত্যাগী ও আদর্শবান কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিএনপি নেতাদের কার্যকলাপে হতাশ কর্মীরা, ঝুঁকছে অন্য দলে

ফতেপুর ইউনিয়ন:

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের স্বেচ্ছাচারী ও একক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন দলের তৃণমূল কর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, গোষ্ঠীগত স্বার্থে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কারণে দলের আদর্শ ও ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে। এতে করে অনেক কর্মীই বিএনপির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার চিন্তায় রয়েছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

নেতাদের মন্তব্য অনুপস্থিত:

অভিযোগ সম্পর্কে স্থানীয় নেতাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

তথ্যসূত্র:

– স্থানীয় নাগরিক প্রতিনিধি দল,

– ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক গোপন সূত্র,

– জনগণের উন্মুক্ত অভিযোগ সভা (তারিখ: ৯ মে ২০২৫)

সাধারণ মানুষের মতে, এই কর্মকাণ্ড বিএনপির মূল নীতিমালা ও ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যাঁরা এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ করছেন, তাঁরা হামলা, ভাঙচুর এবং হুমকির মুখে পড়ছেন বলেও জানা যায়।

উপসংহার:

এই পরিস্থিতি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিএনপির ভাবমূর্তির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচিত, এই বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।


নবীনতর পূর্বতন

প্রভাত চিত্র


প্রভাত চিত্র নিউজ ডেস্ক