![]() |
| ছবি: সংগ্রহীত |
সমকালীন ইতিহাস বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ভারত ছিল ফিলিস্তিনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর আমল পর্যন্ত ভারত বরাবরই ফিলিস্তিনি স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বিশেষ করে ইন্দিরা গান্ধী ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নেতা ইয়াসির আরাফাতের মধ্যে ছিল এক অনন্য সম্পর্ক। ইতিহাসের পর্যবেক্ষকরা বলেন, ইন্দিরা ও আরাফাতের মধ্যে ছিল এক গভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভরসা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সেই আস্থা শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তা বিস্তৃত হয়েছিল ভারতীয় ও ফিলিস্তিনি জাতিসত্তার মধ্যেও।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় ভূ-রাজনীতি। ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারত ধীরে ধীরে ইসরাইলের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ১৯৯২ সালে ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
এর পর থেকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রগুলোতে ইসরাইল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হয়। আজকের দিনে ইসরাইল ভারতের অন্যতম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ, পাশাপাশি কৃষি ও সাইবার প্রযুক্তিতেও তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
তবে ইতিহাসের পাতা এখনো মনে করিয়ে দেয়—ভারতের এক সময়ের অবস্থান ছিল নিঃস্বার্থ মানবিকতার, যেখানে ফিলিস্তিনের প্রতি সহমর্মিতা ছিল এক রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিফলন। এখন সেই জায়গায় এসেছে বাস্তববাদী রাজনীতি, জাতীয় স্বার্থ আর কৌশলগত মিত্রতার হিসাব।
🔹 লেখা: বিশেষ প্রতিবেদক
🔹 সূত্র: সমকালীন ইতিহাস বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংকল

