টেলিভিশনের ধারাবাহিক যে ঘরে ঘরে কতটা জনপ্রিয়, সেটা আর আলাদা করে বলে দিতে হয় না। মুভির পাশাপাশি টিভি সিরিয়াল বা ডেলি সোপের জনপ্রিয়তাও থাকে তুঙ্গে। যার জেরে সিরিয়ালের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও বড় পর্দার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মতোই খ্যাতি অর্জন করছেন। এই পরিস্থিতিতে আজকের প্রতিবেদনে এমন একজন অভিনেত্রীর কথা বলা হয়েছে, যিনি একটা সময় নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে রুপোলি দুনিয়ায় রাজত্ব করেছিলেন। অথচ আচমকাই অভিনয় জগতকে বিদায় জানিয়েছিলেন। তবে এবার একটি টিভি ধারাবাহিকের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন করছেন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। এবার যে-ই তিনি অভিনয়ে ফিরেছেন, সেই মুহূর্ত থেকেই তাঁর পুরনো ঘটনাগুলি নিয়ে ফের শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তা সেটা কী? আর অভিনেত্রীটাই বা কে?
কথা হচ্ছে, অভিনেত্রী যমুনার। বিখ্যাত অভিনেত্রী হিসেবে সাফল্যের চূড়ায় ছিলেন তিনি। ৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর আসল নাম হল প্রেমা। অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুরে তাঁর জন্ম। পরে অবশ্য পরিবারের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে চলে গিয়েছিলেন তিনি। যদিও তামিল ছবির দুনিয়ায় ডেবিউ করেছিলেন প্রেমা। কে বালাচন্দর পরিচালিত ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মানাথিল উত্তম ভেহলে’ ছবির হাত ধরে রুপোলি দুনিয়ায় পদার্পণ করেছিলেন।
পরিচালক বালাচন্দরই অভিনেত্রীর প্রেমা নাম পরিবর্তন করে যমুনা রেখেছিলেন। এরপরে যমুনা নামেই রুপোলি দুনিয়ায় পরিচিতি লাভ করেছিলেন তিনি। তামিল ছবিতে ডেবিউ করলেও বেশিরভাগ তেলুগু এবং কন্নড় ছবিতেই অভিনয় করেছিলেন। দ্বিতীয় ছবিটি যমুনা করেছিলেন তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে। একই ভাবে, সুপারস্টার শিবরাজ কুমারের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে কন্নড় ইন্ডাস্ট্রিতে আবার ডেবিউ করেছিলেন তিনি। আবার ১৯৯৪ সালে শ্রীদেবী এবং নাগার্জুন অভিনীত ‘গোবিন্দা গোবিন্দা’ ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন।
এই ছবি থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন যমুনা। ৫০টিরও বেশি কন্নড় এবং তেলুগু ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। অভিনেত্রী যমুনা একাধিক চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। একাধারে নায়িকা, অন্য দিকে পার্শ্বচরিত্রেও দাপিয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। এরপরে অবশ্য টিভি ধারাবাহিকে চলে এসেছিলেন তিনি। তামিল ধারাবাহিক ‘আম্মান’ এবং তেলুগু ও কন্নড় ইন্ডাস্ট্রিতে একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন। তবে খ্যাতির শিখরে থাকাকালীন এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল যমুনার জীবনে। যা সিনেমা-প্রেমীদের জন্যও একপ্রকার বিপর্যয় ছিল।
২০১১ সালে বেঙ্গালুরুর আইটিসি রয়্যাল গার্ডেনিয়া পাঁচতারা হোটেল থেকে বেশ্যাবৃত্তির অভিযোগে একটি চক্রকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই চক্রের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী যমুনাও। দিন কয়েকের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধেও বেশ্যাবৃত্তির মামলা দায়ের হয়। এই খবর দাবানলের মতো চাউর হয়ে যায়। অন্ধকারে ডুবে যায় অভিনেত্রীর জীবন। ফলস্বরূপ তাঁর ফিল্মি কেরিয়ারেও ভরাডুবি হয়। এরপর থেকে আর অভিনয় করতে দেখা যায়নি তাঁকে। এমনকী জোটেনি কোনও কাজের সুযোগও।
অভিনেত্রী যমুনা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যে মামলা আমার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর তার জন্যই কোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস করেছে। যমুনা আরও দাবি করেন যে, তিনি সেই দিন হোটেলে যাননি। এর জেরে মানসিক চাপের কারণে একাধিক বার আত্মহননের চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সন্তানদের মুখ চেয়ে সেই সিদ্ধান্ত ত্যাগ করেছিলেন। এই অভিযোগের কারণেই রুপোলি দুনিয়া থেকে ৪ বছর দূরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। আদালতের রায়ের পর আবার টিভি সিরিয়ালে অভিনয় শুরু করবেন যমুনা।






