রক্তাত্ব যশোর:
যশোর প্রতিনিধি | ৪ জানুয়ারি, ২০২৬
![]() |
| ছবি: গুলিবিদ্ধ আলমগীর |
যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় গতকাল সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন। গতকাল সন্ধ্যায় নিজ এলাকার একটি মোড়ে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্র দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গতকাল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সশস্র সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আলমগীরের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শংকরপুর ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া: "সন্ত্রাসই কি বুমেরাং হচ্ছে?"
ঘটনার পর এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া থাকলেও সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের চাপা গুঞ্জন ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেক বাসিন্দা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দলীয় কোন্দল বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িত সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার কথা বলছেন।
শংকরপুর এলাকার বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য যে সন্ত্রাসকে একসময় প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, আজ হয়তো সেই সন্ত্রাসই ফিরে এসে নিজেদের গ্রাস করছে। তাদের মতে:
দলীয় কোন্দল: অনেকে মনে করছেন এটি বিএনপি'র অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের ফল।
সন্ত্রাস লালনের পরিণাম: সাধারণ মানুষের ভাষায়, "যারা একসময় সন্ত্রাসীদের কাছে টেনে নিয়েছিল, আজ তারাই সেই সন্ত্রাসের শিকারে পরিণত হচ্ছে।" রাজনৈতিক বিশ্লেষণে একে অনেক সময় 'সন্ত্রাসের কর্মফল' হিসেবেও দেখছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের বক্তব্য
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এটি কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি অন্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।

