সংবিধান আদেশে বাস্তবায়ন হবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’

ঢাকা | বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছবি: ফাইল ফুটেজ 

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে একটি বিশেষ ‘সংবিধান আদেশ’ জারি করার সুপারিশ করা হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সুপারিশগুলো কার্যকর হবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই ‘সংবিধান আদেশ’ গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে হবে।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচন অনিশ্চিত বা বাধাগ্রস্ত হলে পতিত ফ্যাসিবাদ ও অসাংবিধানিক শক্তি লাভবান হবে। তিনি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নিয়ে আন্দোলনরত দলগুলোকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানান।

জামায়াতে ইসলামী নেতারা সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে জনগণ আবারও রাজপথে নামবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়।”

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জুলাই সনদের কাঠামো

সনদে মোট ৮৪ ধারা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ধারা নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশে বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও প্রায় ৩৪টি ধারার জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।

বিএনপি মনে করে সংসদ ছাড়া সংবিধান সংশোধন সম্ভব নয়।

জামায়াত গণভোট বা সাংবিধানিক আদেশে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে।

এনসিপি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে।

কমিশনের অবস্থান

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, বিশেষজ্ঞদের পূর্বে দুটি বিকল্প প্রস্তাব ছিল—‘গণভোট’ এবং ‘সংবিধান আদেশ’। এখন সমন্বিতভাবে একটি সমাধানে পৌঁছে প্রস্তাব করা হয়েছে— ‘সংবিধান আদেশ’ জারি করে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাহী আদেশ, অধ্যাদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ—এই চারটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করার সুপারিশ এসেছে। তবে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হলেও এর বেশি সময় নেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিএনপি বলছে, সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত অংশ বাস্তবায়নের আগে বিচার বিভাগের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জামায়াত বলছে, মৌলিক কাঠামো সংসদের এখতিয়ারে নয়। গণভোটই হবে চূড়ান্ত সমাধান।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ করা হতে পারে।

ফলে, আগামী নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে জুলাই সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি সুসংহত করার পথে এগোচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।


নবীনতর পূর্বতন

প্রভাত চিত্র


প্রভাত চিত্র নিউজ ডেস্ক