নওগাঁয় বাসের চালককে এএসপির মারধরের অভিযোগ

চাপা পড়ছে 'ক্ষমতার দাপটে' শ্রমিকের আর্তনাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | নওগাঁ

নওগাঁর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণ 


দেশজুড়ে যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই নওগাঁয় পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বামীর সঙ্গে তর্কের জেরে এক বাস চালককে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নওগাঁর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণ ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী বাস চালক বাদল।


ঘটনার সূত্রপাত:


​প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল নওগাঁ থেকে রাজশাহীগামী একটি বাসে সিটবিহীন টিকিট কেটে উঠেছিলেন এএসপি শ্যামলী রানীর স্বামী জয়ন্ত বর্মণ। টিকিট সিটবিহীন হলেও তিনি জোরপূর্বক অন্য এক যাত্রীর সিট দখল করে বসেন। বাসের সুপারভাইজার এবং চালক বাদল এতে বাধা দিলে জয়ন্ত বর্মণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার স্ত্রীর পদমর্যাদার দাপট দেখিয়ে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বাস থেকে নেমে যান।
​অফিসে ডেকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন
​ঘটনাটি সেখানেই শেষ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, গতকাল রাতে চালক বাদলকে এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণের অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। বাদলের ভাষ্যমতে, সেখানে এএসপি শ্যামলী রানী নিজেই তার তলপেটে সজোরে লাথি মারেন। এরপর তার স্বামী ও উপস্থিত আরও কয়েকজন মিলে বাদলকে বেধড়ক মারধর করেন। বাদল অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তার শরীরের স্পর্শকাতর ও গোপন জায়গাগুলোতে আঘাত করা হয়েছে, যা চরম অমানবিক।


​নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:


​এত বড় একটি নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য দেখা যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন:
​শ্রমিক রাজনীতি ও বামপন্থীদের নিরবতা: যারা সারাজীবন শ্রমিক অধিকার নিয়ে রাজপথ কাঁপিয়েছেন, সেই বামপন্থী সংগঠনগুলোর কোনো মশাল মিছিল বা প্রতিবাদ এই ঘটনায় দেখা যায়নি।
​দ্বিমুখী নীতি: সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, একদিকে 'শ্রমিক অধিকার' আর অন্যদিকে 'সংখ্যালঘু কার্ড'—এই দুটির দ্বন্দ্বে কি তবে ন্যায়বিচার চাপা পড়ে যাচ্ছে? ক্ষমতার অপব্যবহারকারী যদি প্রভাবশালী কেউ হন, তবে কি শ্রমিকের আর্তনাদ পৌঁছাবে না প্রশাসনের কানে?


​বর্তমান অবস্থা:


​ভুক্তভোগী চালক বাদল বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নবীনতর পূর্বতন

প্রভাত চিত্র


প্রভাত চিত্র নিউজ ডেস্ক